• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

জন্মদিনের কেক কাটলেন খালেদা

indexঢাকা : নিজের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে জন্মদিন উদযাপন করে আসলেও এবার শেষ প্রহরে কেক কাটলেন তিনি। শনিবার রাত সোয়া ৯টায় কার্যালয়ে এসে জন্মদিনের কেক কাটেন বিএনপিনেত্রী। এ সময় নিজের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বিএনপিনেত্রী।

এর আগে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেক কাটার আগে বিএনপিনেত্রীর জন্য উপস্থিত সবাই দোয়া ও মোনাজাত করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নেসারুল হক।

বিএনপিনেত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল কাইয়ূম, শামছুজ্জামান দুদু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানা উল্লাহ মিয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সহ-সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসোইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মাফরু কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

বিএনপি নেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পৃথক পৃথকভাবে পাঁচটি কেক আনে বিএনপি, ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

বিএনপিনেত্রীর জন্মদিন উদযাপন নিয়ে তার গুলশানের কার্যালয়ে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। শরিবার সন্ধ্যা থেকে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি আর কার্যালয়ের ভেতরের জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার কার্যালয়ে ভেতরে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। হালকা গোলাপী রংয়ের নেটের কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো কক্ষটি। সেই সঙ্গে হালকা আলোকসজ্জায় পুরো কক্ষে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ বিরাজ করে।

এদিকে কার্যালয়ের বাইরের সড়কে অসংখ্য নেতা-কর্মী বিএনপি-প্রধানকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন। বিএনপির দ্বিতীয় দফায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর এই প্রথম নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে কার্যালয় প্রাঙ্গন জমে ওঠে।

দীর্ঘদিন ধরে জন্মদিনের প্রথম প্রহরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটতেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাতে কেক কাটার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন। নিজের বাসা ফিরোজায় থাকেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালেদার ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ ও কানিজ ফাতেমাসহ কয়েকজন আত্মীয় ওই বাসায় এসে তার সঙ্গে রাতের খাবার খান বলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কেক কেটে ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন উদযাপন করে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দেশব্যাপী নেতা-কর্মীরা তার জন্মদিন বেশ ঘটা করে পালন করে। গত বছরও গুলশান কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কয়েকটি কেক কাটেন তিনি। তবে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন করছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। তারা এই দিনে জন্মদিন পালন না করারও আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট। তবে তার জন্মদিন ও সাল নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।

খালেদা জিয়া পশ্চিম দিনাজপুরের (ভারতের জলপাইগুড়ি) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন খালেদা খানম পুতুল। পরে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দুই সন্তান তারেক রহমান পিনু এবং আরাফাত রহমান কোকো। গত ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কোকো।

১৯৮১ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হলে নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে খালেদা জিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ৭ দলীয় জোটের নেত্রী হিসেবেও খালেদা জিয়া বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৯১ সালের পর ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে কখনো প্রধানমন্ত্রী, কখনো বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি তার দল বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন তিনি।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ